26.6 C
Chittagong
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআইন আদালতছদ্মবেশী অভিযানে হাটহাজারীতে গোপন অস্ত্রাগারের পর্দাফাঁস

ছদ্মবেশী অভিযানে হাটহাজারীতে গোপন অস্ত্রাগারের পর্দাফাঁস

মনিরুল হক মনির, চট্টগ্রাম

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত তখন সোয়া দুটো। চারপাশ নিঝুম, থমথমে। সাধারণ মানুষের কাছে সেটি শুধুই আর দশটা নিস্তব্ধ রাতের মতো মনে হলেও হাটহাজারী মডেল থানার এসআই মোঃ ফখরুল ইসলামের কাছে খবর ছিল ভিন্ন। গোপন সূত্রের লাল সংকেত—মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনির এক আস্তানায় বসতে যাচ্ছে অবৈধ অস্ত্রের হাট। মুহূর্তের মধ্যে পরিকল্পনা ছকে ফেলে ছদ্মবেশে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে নামেন এসআই ফখরুল। তারপরের পুরো ঘটনাটি ছিল এক সুপরিকল্পিত ও রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প।

অভিযানের শুরুতেই মনসুরাবাদ কলোনির অভিযুক্ত সাকিবের টিনশেড ঘরের চারপাশ নিঃশব্দে ঘিরে ফেলে পুলিশ দল। সুনির্দিষ্ট সংকেত পেতেই রাত ২টা ২৫ মিনিটে ভেতরে প্রবেশ করেন এসআই ফখরুল ইসলাম। পুলিশের আচমকা হানায় ঘরের পেছনের রাস্তা দিয়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সটকে পড়ে ঘর মালিক সাকিব। তবে এসআই ফখরুলের জালে ধরা পড়েন জামাল হোসেন ওরফে জামাল মিস্ত্রি। প্রথমে অস্বীকার করলেও কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভেঙে পড়েন তিনি। জামাল মিস্ত্রির দেয়া তথ্যে সাকিবের শয়নকক্ষের খাটের নিচে থাকা এক কালো শপিং ব্যাগ থেকে ফায়ারিং পিনসহ প্রস্তুত চারটি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জামাল মিস্ত্রির থেকে প্রাপ্ত সূত্রে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে একই কলোনির মোঃ কবিরের শয়নকক্ষে হানা দেয় পুলিশ। ঘুমচোখে কবির কিছু বুঝে ওঠার আগেই এসআই ফখরুলের জেরার মুখে স্বীকারোক্তি দেয়। এরপর কবির নিজ হাতেই তার কাঠের আলমারির ড্রয়ার খুলে বের করে দেয় ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এক বিরল ‘পেন গান’ এবং কাঁচের কোটায় রাখা লোহাকুচি ও ফায়ারিংয়ের নানা সরঞ্জাম।

অস্ত্র উদ্ধারের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এসব অস্ত্রের উৎসের সন্ধান বের করা। এসআই ফখরুল কবিরের কাছ থেকেই আদায় করেন মূল কারখানার হদিস। ভোর সাড়ে ৫টায় পুলিশ টিম পৌঁছায় স্থানীয় সরকারহাট বাজারের ‘ফোরকান এর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ’-এ। দোকান তালাবদ্ধ থাকায় স্থানীয় নিরপেক্ষ বাসিন্দাদের ডেকে এনে তাঁদের সামনেই সাটার ভেঙে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। বাইরে এটি সাধারণ সিএনজি মেরামতের গ্যারেজ মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে রাখা ছিল অস্ত্র তৈরির কারখানা। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় গ্র্যান্ডিং মেশিন, বার্নিয়ার স্কেল, ফুট স্কেল, ফাইল ও করাতসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বানানোর বিপুল সরঞ্জাম।

অপারেশনের কৌশল সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, ‘অস্ত্রের ক্রেতা সেজে জামাল ও কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় অস্ত্র বিক্রির কথা জানান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।’

চক্রটির কাজের ধরন ব্যাখ্যা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ‘জামাল রাজমিস্ত্রি এবং কবির অটোরিকশার চালক পরিচয় ব্যবহার করে অস্ত্র বিক্রি করতেন, যাতে তাঁদের কেউ সন্দেহ না করে।’