চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান এবং জাহাজের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিরাপদ করে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে একাধিক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল ও উদ্ধারকারী সংস্থা। পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে, যার মাধ্যমে পেশাদার আইনি ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইয়ার্ডের দুর্ঘটনাকবলিত অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজে ঢাকার বিশেষায়িত বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌ মন্ত্রণালয় এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত গ্যাসের নমুনা ল্যাব পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিএসআরবির ডিজি এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলটিকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ করতে উদ্ধারকারী টিম ‘প্রান্তিক’ ও ‘আলিফ’সহ অন্যান্য পেশাদার দলগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক ধারণামতে ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে জমাকৃত গ্যাসের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি জাহাজটিকে টেকসই ও নিরাপদ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, ফরেনসিক ও তদন্ত প্রতিবেদনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ নিরূপণের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে শিপব্রেকিং খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার ও সুসংহত করার ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

