25.4 C
Chittagong
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআইন আদালতমাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সুসংহত উদ্যোগের তাগিদ

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সুসংহত উদ্যোগের তাগিদ

সুসংবাদ ডেস্ক

মাদকাসক্তি দূরীকরণে পারিবারিক সচেতনতা, কার্যকর চিকিৎসা-পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক ঐক্যের ওপর জোর দিচ্ছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। সব মূল তথ্য অপরিবর্তিত রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে যে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দেশের যুবসমাজকে ইতিবাচক পথে ধরে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ বেগবান করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান ও গবেষণার তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮২ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ) মাদক ব্যবহারের ঝুঁকিতে রয়েছে, যার একটি বড় অংশই তরুণ। গত ১ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত মাদক সংক্রান্ত পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে সারাদেশে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এতে পরিবারগুলোতে যে সাময়িক সংকট ও নির্যাতন তৈরি হচ্ছে, তা প্রতিরোধে এখন সামাজিক আন্দোলন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ ইতিমধ্যেই এই সমস্যা মোকাবিলায় জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে সারাদেশে নিবন্ধিত ১৮,৮২০টি মামলার মধ্যে ৬,৫৮০টি (প্রায় ৩৫ শতাংশ) ছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। এছাড়া কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৯ জুলাই পর্যন্ত কারাবন্দি ৯৩,৪৪০ জনের মধ্যে ১৯.৭ শতাংশ (১৭,৮১৯ জন) মাদক সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত।

আইনি তদারকির পাশাপাশি স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসার আশাব্যঞ্জক চিত্রও দেখা যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, দেশের ৩৮৯টি সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে অন্তত ২১,০০০ জন মাদকাসক্ত ব্যক্তি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে সুস্থ ধারায় ফেরার চেষ্টা করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এবং পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তে কঠোর তদারকি, মাদকের সহজলভ্যতা রোধ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা গেলে তরুণদের সমাজ গঠনের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।