24.8 C
Chittagong
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদসারাদেশবহুজাতিক ব্যাংক কর্মকর্তার পৈশাচিক রূপ

বহুজাতিক ব্যাংক কর্মকর্তার পৈশাচিক রূপ

শ্বশুরের টাকায় বিলাসের স্বপ্ন চুরমার, ১ কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পিটিয়ে কারাগারে

সুসংবাদ ডেস্ক

ব্যবসা করার নামে শ্বশুরালয় থেকে ১ কোটি টাকা যৌতুক দাবি, স্ত্রীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন এবং আইনি দায় এড়াতে একপক্ষীয় তালাকের ফন্দি—সব চালই ব্যর্থ হয়েছে। অবশেষে বহুজাতিক ব্যাংকের কর্মকর্তা তাসলিম হোসেন তুর্যকে (২৮) যেতে হয়েছে জেলে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জখম সনদ, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন এবং হাইকোর্টের কঠোর আদেশের মুখে জামিন আবেদন নাকচ করে সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তাসলিম হোসেন তুর্য সিটিব্যাংক এন.এ.-এর ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ‘অপারেশনস অ্যান্ড টেকনোলজি’ বিভাগে অফিসার হিসেবে কর্মরত। ব্যাংকে উচ্চপদে থাকলেও তাঁর লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান স্ত্রী উম্মে রুম্মান সিদ্দিকীর (২৫) পারিবারিক সম্পদ। চাকরি ছেড়ে স্বাধীন ব্যবসা ও বিলাসী জীবনযাপনের লোভে তিনি মোটা অঙ্কের এই যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে স্ত্রীকে আপত্তিকর ছবি ও পর্নোগ্রাফি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের ৪ অক্টোবর দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে শ্বশুরালয়ে গিয়ে ফের টাকা দাবি করেন তুর্য। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রীকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন। চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসক ড. উপাল চৌধুরীর দেওয়া জখমী সনদেও (স্মারক নং-১৪৯৪৫) ভুক্তভোগীর পিঠে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে।

ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী রুম্মান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তুর্যের পরকীয়া ও বিকৃত রূপ সামনে আসতে থাকে। সহকর্মীদের ছবি এআই (AI) দিয়ে বিকৃত করাসহ নানা অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার বিষয় ধরে ফেলায় তাঁর ওপর চড়াও হতেন তুর্য। ৪ অক্টোবরের হামলায় তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগীর বাবা সিদ্দিক বলেন, “মেয়েটার জীবনটা তছনছ করে দিল, আমি এই পশুটার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

নথি অনুসন্ধানে দেখা যায়, মারধরের পরদিনই (৫ অক্টোবর) স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ পাঠান তুর্য। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সালিশী কাউন্সিল থেকে একপক্ষীয়ভাবে তালাকটি কার্যকর দেখানো হয় (মামলা নং-৩০৫৪-২/২৫)। ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগ নিয়ে মামলা থেকে বাঁচতেই এই আইনি কৌশল বুনেছিলেন আসামি।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী আদালতে সি.আর মামলা (নং-৬৮৩/২০২৫) দায়ের করেন। হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় অপরাধের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়াছিন আরাফাত জানান, আসামি প্রথম দিকে জামিনের শর্ত ভেঙে বাইরে অবস্থান করছিলেন এবং ভুক্তভোগীকে হুমকি দিচ্ছিলেন। নিম্ন আদালত জামিন বাতিল করলে তিনি হাইকোর্টে (মামলা নম্বর ৪৪৬৪৬/২০২৬) যান। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনেই আসতে হবে। উচ্চ আদালতের এমন কড়া অবস্থানের মুখে গত ২৩ আগস্ট আসামি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে সরাসরি জেলে পাঠান।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মীর তোফাজ্জল হোসেন আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল নির্দোষ। বাদীর আচরণগত সমস্যার কারণে নিয়ম মেনেই তালাক দেওয়া হয়েছে এবং যৌতুক বা নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।