চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বহিষ্কারাদেশ থেকে ফিরে এসেই স্থানীয় যুবদল–রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠেছেন। কয়েক মাস ধরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের বাইরে থাকলেও কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্তে তার পদ পুনর্বহাল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে সহ–দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।
‘পুনরায় আস্থার প্রতিফলন’
সিদ্ধান্ত জানার পর প্রতিক্রিয়ায় মোশাররফ হোসেন সুসংবাদকে বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে যে আস্থা দেখালেন, সেটা আমার জন্য বড় সম্মান।’ তিনি জানান, দলের কর্মী–সমর্থকদের পাশে থাকার প্রবল মানসিকতা আরও জোরদার হয়েছে তার।‘আগামিদিনে দলীয় সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করতে চাই,’—বলেন তিনি।
দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী–নির্ভর রাজনীতি
ছাত্রদল থেকে রাজনীতিতে আসা মোশাররফ যুবদলের টানা সংগঠক হিসেবে পরিচিত। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য পদে দায়িত্ব পালনের পর যুবদলে তার উত্থান যায় চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় রাজনীতিতে তার মাঠ–সক্রিয়তা, কর্মীদের সঙ্গে সখ্য ও সমন্বয় করার ক্ষমতা তাকে চট্টগ্রাম যুবদলের পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।
কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া
মোশাররফকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্তে মহানগর যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা–কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। কয়েকজন নেতার ভাষায়— “মাঠের কর্মীদের সঙ্গে মোশাররফের যোগাযোগ ভালো। তাকে ফিরিয়ে আনা হলে সাংগঠনিক কাজে আবার গতিশীলতা ফিরবে।” স্থানীয়ভাবে তার গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও মনে করছেন তারা।
বহিষ্কারের দিনগুলো: চুপ থাকলেও থেমে ছিলেন না
দলীয় সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত অবস্থায়ও মোশাররফ রাজনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তিনি নিজের এলাকায় কর্মী–সমর্থকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন। মোশাররফ বলেন, ‘বহিষ্কারাদেশ আমার জন্য আত্মসমালোচনার সময় ছিল। কিন্তু দলের প্রতি বিশ্বাস কখনও হারাইনি।’
দলের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
পদে বহাল হওয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যে আমাকে ফিরিয়ে আনল, সেটা আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।’
আগামিদিনের পরিকল্পনা
আগামী দিনের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংগঠনকে বিভক্তির বাইরে রেখে শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে চাই। দল আমাকে যে সুযোগ দিয়েছে, সেটা মাঠের কাজে প্রমাণ করতে চাই।’ যুবদলের ভেতরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর তার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে নতুন সমন্বয়ের সম্ভাবনার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

