প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, “সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়।” বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই এই মেলা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।
অনুষ্ঠানটি সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংগীত পরিবেশন করেন সুরসপ্তকের শিল্পীরা; পরে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।
বই পড়ার ওপর জোর:
প্রধানমন্ত্রী বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে রোমান দার্শনিক Marcus Tullius Cicero-এর উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন—বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে বই পড়া মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্ক্রিনে পড়ার চেয়ে কাগজের বইয়ের গভীরতা ভিন্ন ও অনন্য।
আন্তর্জাতিক এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০২ দেশের মধ্যে পাঠাভ্যাসে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম; বছরে গড়ে একজন নাগরিক মাত্র তিনটি বই পড়েন। এ চিত্র পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
বইমেলাকে আন্তর্জাতিক করার পরিকল্পনা:
প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি-কে ভবিষ্যতে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার চিন্তা করতে বলেন। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও জোরদার হবে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি জাতিসংঘে বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান।
তরুণদের মেধা বিকাশে বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন তিনি।
সারা দেশে বইমেলা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান:
প্রধানমন্ত্রী বইমেলাকে শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক না রেখে বছরজুড়ে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজনের আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে আশ্বাস দেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ “সবার আগে বাংলাদেশ” গড়তে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তিনি ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমসহ কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



