30 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদঅর্থ-বাণিজ্য১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের, বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের, বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

সুসংবাদ ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কহার নির্ধারিত হয়েছিল ১৯ শতাংশ। তবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে Supreme Court of the United States। এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি। পরদিন তা আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নতুন ঘোষিত ১৫ শতাংশ শুল্ক বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। ব্যবসায়ী মহলের ধারণা, ট্রাম্পের নতুন ঘোষণাও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, চুক্তিটি হয়তো বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে ২৪ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। চুক্তি স্বাক্ষরে তাড়াহুড়ার সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, তখনই স্বাক্ষর করা প্রয়োজন ছিল এবং এতে উদ্দেশ্যমূলক কিছু ছিল না।

বাংলাদেশ নিট পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হলে তা ভালো হবে। তাঁর ভাষ্য, এতে বাংলাদেশের স্বার্থহানির একাধিক ধারা রয়েছে; বাতিল না হলে নতুন করে পর্যালোচনা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ট্রাম্প বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। পরে তিন মাসের জন্য তা স্থগিত রেখে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। ৮ জুলাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হার ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। একই বছরের ২ আগস্ট ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতিও দেয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, দুই দেশের সংসদে অনুসমর্থনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ৯ ফেব্রুয়ারির চুক্তি এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে বিষয়টি নতুন করে দেখার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, এ মুহূর্তে সরকারের কৌশলী থাকা উচিত।

২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে তবেই স্পষ্ট হবে—বাংলাদেশের সঙ্গে করা চুক্তির বাস্তব প্রভাব কী দাঁড়ায়।