এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীন ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। আজ শুক্রবার মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে (ADMM-Plus) এই বৈঠকগুলো হয়।ওয়াশিংটন বলছে, এই আলোচনার লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।
চীনের সঙ্গে উত্তেজনা, তবু যোগাযোগ অব্যাহত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া বিবৃতিতে পেন্টাগন প্রধান জানান, তিনি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুনের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
হেগসেথ বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব এবং ইন্দো–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখব।”
তিনি দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান ঘিরে চীনা সামরিক কার্যকলাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে উভয় দেশই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়।
ভারতের সঙ্গে ১০ বছরের প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি
আসিয়ান সম্মেলনের sidelines-এ ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির বিষয়ে হেগসেথ বলেন,“এটি আমাদের দুই সামরিক বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ— আরও গভীর এবং অর্থবহ সহযোগিতার একটি রোডম্যাপ।” তিনি চুক্তিটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার তেল কেনার কারণে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর পর এটাই দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রধানদের প্রথম বৈঠক। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, উভয় পক্ষ ভারতের মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা নিয়েও আলোচনা করবে।
ইন্দো–প্রশান্ত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, হেগসেথ এই সম্মেলনের ফাঁকে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডসহ অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
উদ্দেশ্য— চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান আয়োজিত এই বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স

