18.6 C
Chittagong
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদলিডএক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া হবে না: নবীন সৈনিকদের শপথে উদ্দীপ্ত বিজিবি মহাপরিচালক

এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া হবে না: নবীন সৈনিকদের শপথে উদ্দীপ্ত বিজিবি মহাপরিচালক

সুসংবাদ ডেস্ক:

সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীরা দেশের মাটি রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত—এমনই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির ঐতিহ্যবাহী বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন,
“প্রয়োজনে জীবন দেব, কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া হতে দেব না।”

‌নতুন সৈনিকদের দৃপ্ত শপথ

সকাল সাড়ে ৯টায় সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ৬৯৪ জন নবীন রিক্রুটের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ ব্যাচে ৬৫৮ জন পুরুষ এবং ৩৬ জন নারী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। নবীনদের উদ্দেশে বিজিবি ডিজি বলেন, “সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়েই একজন প্রকৃত সৈনিক গড়ে ওঠে। আপনারা হচ্ছেন জাতির প্রহরী—সীমান্তের অভিভাবক। এই গুরুদায়িত্ব পালনে কখনো শিথিলতা চলবে না।”

নারী সৈনিকদের অংশগ্রহণে নতুন দিগন্ত

নারী সৈনিকদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে নারীদের অবদান গর্বের। আজকের নবীন নারী সৈনিকরা সেই উত্তরসূরি, যারা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতায় বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।”

সীমান্তে দৃঢ় অবস্থান, অভ্যন্তরীণ দায়িত্বেও সমান ভূমিকা

বিজিবি ডিজি বলেন, “৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তরেখা রক্ষা, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার প্রতিরোধসহ দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে। নবীন সৈনিকরাও শিগগির এই দায়িত্বে সামিল হবে।” তিনি নবীনদের কুচকাওয়াজের প্রশংসা করে বলেন, “এটাই প্রমাণ করে, আপনারা কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছেন। ভবিষ্যতে সীমান্তে আপনাদের সততা ও পারদর্শিতাই বাহিনীর সুনাম নির্ধারণ করবে।”

প্রশিক্ষণের পরিসংখ্যান:

শুরু: ২৬ জানুয়ারি ২০২৫
প্রশিক্ষণের সময়কাল: ২৪ সপ্তাহ
অংশগ্রহণকারী: মোট ৬৯৪ জন
নারী: ৩৬ জন | পুরুষ: ৬৫৮ জন

‍বিশ্লেষণ: চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে। বিজিবির মতো বাহিনীগুলো শুধু সীমান্ত নয়, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই প্রেক্ষাপটে নবীন সৈনিকদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।