27.6 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদঅর্থ-বাণিজ্যআদালতের আদেশে থামল বিতর্কিত এজিএম

দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড

আদালতের আদেশে থামল বিতর্কিত এজিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মুখে থমকে গেল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড’-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে নির্বাচিত সম্পাদকের ক্ষমতা খর্ব এবং সভাপতির একক সিদ্ধান্তে সভা ডাকার প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনি’ বলে গণ্য করেছেন উচ্চ আদালত। এই আদেশের ফলে আগামী ১৬ মে শনিবারের প্রস্তাবিত এজিএম এবং এর আনুষঙ্গিক সকল কার্যক্রমের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

স্থগিতাদেশের নেপথ্যে: গত ১১ মে বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন (রিট পিটিশন নম্বর: ৬০১০/২০২৬)। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যে, সমিতির উপ-আইন ১৫.২(১) এবং ১৬.৭(গ) ধারা অনুযায়ী এজিএম ডাকার আইনগত এখতিয়ার কেবল নির্বাচিত সম্পাদকের। অথচ সেই বিধান উপেক্ষা করে সভাপতি ওয়াহিদ মালেক একক সিদ্ধান্তে সভার নোটিশ জারি করেছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

অকার্যকর সভার বিজ্ঞপ্তি সরকারি মেমো: উচ্চ আদালতের এই কড়া নির্দেশনার ফলে গত ৩০ এপ্রিল ‘দৈনিক পূর্বকোণ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এজিএম বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা পুরোপুরি স্থগিত হয়ে গেছে। একই সাথে সমবায় অধিদপ্তরের গত ৪ মে’র একটি বিতর্কিত মেমোটিও এখন আইনত অকার্যকর। ব্যারিস্টার সজল মল্লিক স্বাক্ষরিত লয়ার সার্টিফিকেটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। ৪৪ ডিএলআর (এডি) ২১৯-এর আইনি নজির অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের এই স্থগিতাদেশ মেনে চলা উভয় পক্ষের জন্য এখন বাধ্যতামূলক।

পঁচাত্তর বছরের ইতিহাসে প্রথম: সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, “গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে সম্পাদকের স্বাক্ষর ব্যতীত এজিএম ডাকার কোনো নজির এই সমিতিতে নেই। সভাপতির এই পদক্ষেপ কেবল গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একটি স্বৈরাচারী আচরণ।” তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশের কপি দাপ্তরিকভাবে হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সদস্যদের প্রতিক্রিয়া বর্তমান পরিস্থিতি: আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ১৬ মে শনিবার প্রস্তাবিত সভায় সাধারণ সদস্যদের সমবেত হওয়া বা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন আইনত দণ্ডনীয়। এই স্থগিতাদেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু সদস্যই একে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও গঠনতান্ত্রিক শাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখছেন।