১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় শফিকুর রহমান–এর স্ত্রী বিথী আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গত শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার বলেন, রিমান্ড শেষে বিথীকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া তাঁর জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করলে আদালত তা গ্রহণ করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর সাবেক এমডি শফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত শফিকুর রহমানের পাঁচ দিন ও বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিন গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
রিমান্ড শেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালীকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শফিকুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দায় স্বীকারের পর সুফিয়া বেগমকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য একটি শিশুকে কাজের কথা বলা হয়। নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়, শিশুটির বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহন করা হবে। পরে গত বছরের জুন মাসে মোহনা নামে ওই শিশুকে বাসায় কাজে দেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে যান। এরপর আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে জানান, শিশুটি অসুস্থ। সন্ধ্যায় বাসা থেকে বুঝে নেওয়ার সময় শিশুটির দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান বাবা। পরে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২ নভেম্বরের পর বিভিন্ন সময়ে শফিকুর রহমান, বিথীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেন। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

