23.3 C
Chittagong
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআইন আদালতস্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পোল্ট্রি ফিড ব্যবসা

কারখানার নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করছেন আবুল হোসেন সুরুজ!

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পোল্ট্রি ফিড ব্যবসা

ফিডে ব্যবহার করা হচ্ছে আমদানি-নিষিদ্ধ মিটবন ও ট্যানারির বর্জ্য!

বিশেষ প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তদন্ত ও নির্দেশনার পরও চট্টগ্রাম নগরের সিটি গেট এলাকায় ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে অবৈধ পোল্ট্রি ফিড উৎপাদন ও বিপণন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা এড়িয়ে কৌশলে এই কার্যক্রম পরিচালনার নেপথ্যে আবুল হোসেন সুরুজ নামের এক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, পোল্ট্রি ফিড ক্রাশিং ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা ও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিটি গেট এলাকার দুটি কারখানায় গোপনে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই পুরো প্রক্রিয়ায় সামনে অন্য কাউকে রাখা হলেও এর নেপথ্যে মূল দিকনির্দেশনা আবুল হোসেন সুরুজের বলে দাবি করা হয়েছে। কারখানায় স্থানীয় জনৈক মতিন মাঝির তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারখানায় আমদানি-নিষিদ্ধ মিটবন (Meat and Bone Meal) এবং ট্যানারির বর্জ্যের মতো ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে ফিড তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হুমকিপ্রদ।

এ বিষয়ে আবুল হোসেন সুরুজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে একজন আমদানিকারক দাবি করেন এবং পোল্ট্রি ফিড ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকার বিষয়ে কথা বলেন। মতিন মাঝিকে দিয়ে কারখানা পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি পরে অফিসে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তার বক্তব্য স্পষ্ট করতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মূল প্রসঙ্গে কথা না বলে অন্য ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিকর উপাদানে ফিড তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রয়েছে সরকারের। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য এবং অননুমোদিত উপাদান পোল্ট্রি ফিডে ব্যবহার করা হলে মাংস ও ডিমের মাধ্যমে বিষাক্ত কেমিক্যাল মানবদেহে প্রবেশ করে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপে নামছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।  এসআরবি-৭ (SRB-7) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ও বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে অবৈধ ফিড তৈরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সিটি গেট এলাকার ওই কারখানাগুলোসহ সংশ্লিষ্ট চক্রটির বিরুদ্ধে  প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহল ও স্থানীয় খামারিরাও জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত এই অবৈধ কারখানাগুলো বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ পরিদপ্তর ও এসআরবি-৭ এর যৌথ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।