30 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদটপ নিউজবিয়েতে হীরা নয়, ৩ কেজি সোনার গয়নায় সাজলেন রাশমিকা

বিয়েতে হীরা নয়, ৩ কেজি সোনার গয়নায় সাজলেন রাশমিকা

দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের আদলে তৈরি অলংকারে বিজয়–রাশমিকার বিয়ে ঘিরে আলোচনার ঝড়

সুসংবাদ ডেস্ক

আধুনিক ডায়মন্ড ট্রেন্ড থেকে সরে গিয়ে দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের অনুপ্রেরণায় তৈরি সোনার গয়নায় নিজেদের বিয়েকে অনন্য করে তুলেছেন অভিনেতা Vijay Deverakonda ও Rashmika Mandanna। তাদের এই বিয়ের গয়নার সংগ্রহ এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি। তবে এটি শুধু আরেকটি তারকাখচিত বিয়ে ছিল না; বরং প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও ব্যক্তিগত আনন্দে ভরা এক বিশেষ আয়োজন ছিল তাদের এই বিয়ে।

‘বিরোশ’—যা বিজয় ও রাশমিকার নাম মিলিয়ে তৈরি—এই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির শিল্পের আদলে তৈরি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজড সোনার গয়নার সংগ্রহ। হায়দরাবাদের Shree Jewellers Hyderabad এসব গয়না তৈরি করে। ধারণা থেকে নকশা, এরপর একাধিক ট্রায়াল—সব মিলিয়ে পুরো সংগ্রহটি প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ মাস। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক কেজি সোনা।

গয়নার বিশেষত্ব শুধু আকার বা জাঁকজমকে নয়। এখনকার সময়ে কনের সাজে যেখানে হীরা ও আন্তর্জাতিক ধাঁচের ডিজাইনের প্রভাব বেশি, সেখানে এই তারকা জুটি বেছে নিয়েছেন শিকড়ের কাছাকাছি ঐতিহ্যবাহী অলংকার। রাশমিকাকে কল্পনা করা হয়েছিল এক ‘জীবন্ত দেবী’ হিসেবে, আর বিজয়কে ‘সার্বভৌম রাজা’ রূপে। ফলে গয়না ছিল শুধু সাজের অংশ নয়, পুরো বিয়ের গল্পেরই কেন্দ্রবিন্দু।

দেবীরূপী কনে:

রাশমিকার বিয়ের সাজে ছিল ১১টি প্রধান সোনার অলংকার। দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির ঐতিহ্যের অনুপ্রেরণায় তৈরি এসব গয়না তার কমলা-লাল আভাযুক্ত শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে ডিজাইন করা হয়।

গলার অলংকারই ছিল পুরো সাজের মূল আকর্ষণ। কলারবোনে বসানো ছিল লক্ষ্মী মূর্তির নকশা করা ‘নাক্ষি’ কারুকাজের চোকার। এরপর স্তরে স্তরে ছিল ‘কাসু মালা’, যেখানে ক্ষুদ্র লক্ষ্মী মুদ্রার নকশা সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে খোদাই করা। পাশাপাশি বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মন্দির স্টাইলের ‘হারাম’ গলায় সাজানো ছিল। সবশেষে একটি লম্বা মন্দির-চেইন শাড়ির আঁচল জুড়ে নেমে এসে পুরো অবয়বকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে।

গয়নার প্রতিটি অংশে ছিল গভীর নাক্ষি খোদাই ও ‘রাভা গ্রানুলেশন’, যা সূক্ষ্ম টেক্সচার তৈরি করে সোনার গয়নায় কোমলতা ও গভীরতা যোগ করে। এগুলোর ফিনিশ ছিল অ্যান্টিক ম্যাট—উজ্জ্বল পালিশ নয়। ফলে গয়নাগুলো নতুনের চেয়ে বরং বহু প্রজন্মের ঐতিহ্য বহন করা পুরনো অলংকারের অনুভূতি দেয়।

মুখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয় ঐতিহ্যবাহী মাথাপট্টি ও ‘চাম্পাসারালু’ হেয়ারলাইন চেইন দিয়ে তৈরি এক ধরনের টেম্পল জুয়েলারি হ্যালো। এর সঙ্গে ছিল সূক্ষ্ম সোনার নাকফুল। উপরের বাহুতে দেবী মোটিফের বাজুবন্ধ, চুলের বেণিতে ‘জাডা বিল্লা’ অলংকার এবং কোমরে ‘কামারবন্দ’—সব মিলিয়ে প্রতিটি গয়নাই পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব।

গয়নার মূল্য:

এই বিয়ের গয়নার নির্দিষ্ট দাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, প্রায় তিন কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য মোট মূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৭ কোটি রুপিরও বেশি। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয় এবং কেবল আনুমানিক হিসাব হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবু নিখুঁত কারুকাজে তৈরি এই ‘বিরোশ’ গয়নার জাঁকজমক ও ঐতিহ্য যে নজর কাড়ার মতো—তা বলাই যায়।