27.6 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকনির্বাসন পেরিয়ে মসনদে: বীরের বেশে ফেরা তারেক রহমানসহ কয়েক নেতা

নির্বাসন পেরিয়ে মসনদে: বীরের বেশে ফেরা তারেক রহমানসহ কয়েক নেতা

সুসংবাদ ডেস্ক

রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, সামরিক শাসন কিংবা স্বৈরাচারী সরকারের রোষ—ইতিহাসে বহু নেতাকে ঠেলে দিয়েছে নির্বাসনে। কেউ কারাগারে, কেউ বিদেশে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর। কিন্তু সময় বদলেছে, জনমত ঘুরেছে—আর তারা ফিরেছেন বীরের বেশে, বসেছেন রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে। এমন কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার গল্প তুলে ধরা হলো।

তারেক রহমান:

বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরবর্তী সময়ে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে ব্যাপক জনসমর্থন পান। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

বেনজির ভুট্টো:

বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো–এর কন্যা। ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়া উল হক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। বেনজিরকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮৪ সালে তিনি লন্ডনে যান এবং ১৯৮৬ সালে দেশে ফিরে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তী সময়ে বরখাস্ত ও পুনর্নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবন ছিল উত্থান-পতনে ভরা।

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি:

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রধান নেতা। শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি–এর শাসনের বিরোধিতা করায় ১৯৬৪ সালে তাকে তুরস্কে নির্বাসনে পাঠানো হয়। পরবর্তী ১৪ বছরের বেশি সময় তিনি তুরস্ক, ইরাক ও ফ্রান্সে কাটান। নির্বাসনকালেই তিনি সংগঠিত করেন ইসলামি বিপ্লবের ভিত্তি। ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইরানে ফিরে বিপুল জনসমর্থন পান। একই বছর ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (১৯৮৯) দায়িত্ব পালন করেন।

নেলসন ম্যান্ডেলা:

নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক। ১৯৬২ সালে গ্রেপ্তার হয়ে ২৭ বছর কারাবন্দি থাকেন। ১৯৯০ সালে মুক্তি পান এবং ১৯৯৪ সালের প্রথম বহুদলীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন। কারাবাস তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে—যা তাকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?

এছাড়া নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, চার্লস দ্য গল, ভ্লাদিমির লেনিন এবং অং সান সু চি–এর মতো নেতারাও নির্বাসন বা বন্দিত্বের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছেন। ইতিহাস বলছে, রাজনৈতিক নির্বাসন সবসময় পরাজয়ের শেষ শব্দ নয়। কখনও কখনও সেটিই হয়ে ওঠে নতুন অধ্যায়ের সূচনা—যেখানে জনসমর্থনই নির্ধারণ করে শেষ পরিণতি।