13.7 C
Chittagong
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদনগরআদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত, সোসাইটির সভা প্রশ্নবিদ্ধ, সদস্যরা ক্ষুব্ধ

সোসাইটির ‘গোপন সভা’: রেজিস্টার গায়েব, সিসিটিভির ফুটেজ উধাও

আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত, সোসাইটির সভা প্রশ্নবিদ্ধ, সদস্যরা ক্ষুব্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক , সুসংবাদ

কো-অপারেটিভের নিয়ম-নীতি আর আইন মানা এখন কেবল কাগজে-কলমে। বাস্তবতায় সেটাই যেন ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সোসাইটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, গুমরাহি এবং বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে। কেন? কারণ এই সভাটি হয়েছে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে।কিন্তু শুধু সভা হওয়ার মধ্যেই থেমে থাকেনি সমস্যার ঢেউ। সোসাইটির রেজিস্টারসহ জরুরি প্রশাসনিক নথিপত্র গায়েব, অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ উধাও, আর সভাপতির একক দখলে থাকা ক্ষমতা—এসবই যেন এই বিতর্কের নতুন নতুন অধ্যায়।

সভা আহ্বানে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রণে অসন্তোষ

সোসাইটির উপ-আইনের ১৬.৭ (গ) ধারা স্পষ্ট বলে, সভা ডাকার একমাত্র কর্তৃপক্ষ সম্পাদক। তবুও গত শনিবারের সভার নোটিশে দেখা গেছে, স্বাক্ষর করেছেন সভাপতি ওয়াহিদ মালেক। এতে বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুদ্দিনের অভিযোগ, “সভা আহ্বানে সভাপতি কর্তৃক স্বাক্ষর আইন লঙ্ঘন, যা সরাসরি আদালতের আদেশের পরোক্ষ অবমাননা।”

রেজিস্টার থেকে সিসিটিভি ফুটেজ — এক অদ্ভুত রহস্য

সরকারি নথিপত্র অফিসে রাখা না রেখে, সভাপতির হেফাজতে থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ উধাও হওয়া—এসব বিষয় ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। “সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হয়ে যাওয়ায় সত্য উদ্ঘাটনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে,” বলছেন সম্পাদক।

সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা, একক সিদ্ধান্তে অভিযোগ

সোসাইটির নির্বাচিত সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সভাপতি ওয়াহিদ মালেক এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, বিরোধী মত প্রকাশ করলেই হয় গালমন্দ ও হুমকি। “আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রক্রিয়া চলছে,” অভিযোগ এক সদস্যের।

আইনি পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ সংকট

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় সভা আয়োজন মানে সরাসরি আদালত অবমাননা। এতে আইনি কঠোর ব্যবস্থা আসতে পারে।”

এখন প্রশ্ন, এই সংঘাতের অচল অবস্থা থেকে কীভাবে সোসাইটি বেরিয়ে আসবে? দায়িত্বশীলদের কি শুদ্ধিকরণের পথে হাঁটতে হবে, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের ধোঁয়ায় প্রশাসনিক নীতি আরও ঝরে যাবে?