দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অবকাঠামোগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও বিদ্যালয় পরিদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ জুলাই ২০২৫) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন নবনিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব জনাব মারুফুল হক চৌধুরী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত সচিব প্রফেসর ড. এ.কে.এম শামছুউদ্দীন আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাসেম এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান।
সভায় অংশ নেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রবীণ শিক্ষক নিরথ বরণ চৌধুরী, অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, শতাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
শিকড়ের টানে নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তন:
সভাপতির বক্তব্যে মারুফুল হক চৌধুরী বলেন, “চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় আমার শৈশবের পাঠশালা, আমার শিকড়। এই বিদ্যালয়ের অগ্রগতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমি চাই, এই প্রতিষ্ঠান আবারো দক্ষিণ চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে উঠুক।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, টয়লেট সমস্যা, বিজ্ঞানাগার ও লাইব্রেরি উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।
শিক্ষা বোর্ডের আশ্বাস:
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা বোর্ড সচিব প্রফেসর ড. শামছুউদ্দীন আজাদ বলেন,“চট্টগ্রামের অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আজও পিছিয়ে রয়েছে শুধু কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের অভাবে। চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।”
বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আবুল কাসেম বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও স্থানীয় নেতৃত্ব যদি একসঙ্গে কাজ করেন তবে শিক্ষার মানোন্নয়ন খুব কঠিন নয়।”
তিনি বলেন, বোর্ড থেকে নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রত্যাশা:
সভায় স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের দুরবস্থার বিবরণ তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের উপকরণ সংকট, মেয়েদের জন্য নিরাপদ টয়লেটের অভাব, মাঠের বেহাল দশা এবং পরীক্ষার ফলপ্রসূ প্রস্তুতির ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষক নিরথ বরণ চৌধুরী বলেন,“এক সময়ের সেরা ফলাফল করা এই স্কুল এখন নানা সংকটে জর্জরিত। নতুন কমিটির নেতৃত্বে আমরা আশার আলো দেখছি।” একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা যাতে ভালো পরিবেশে পড়তে পারে, সে জন্য আমরা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”

