17.5 C
Chittagong
শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামচাঁদা না পেয়ে মব সৃষ্টি ও গেটে তালা, অধ্যক্ষ বললেন ‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি’

ছাত্রদল নেতাসহ তিনজন আটক, পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি

চাঁদা না পেয়ে মব সৃষ্টি ও গেটে তালা, অধ্যক্ষ বললেন ‘নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি’

সুসংবাদ ডেস্ক:

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা এলাকায় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজন দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে চাঁদা না দেয়ায় একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে মারধর, গেটে তালা দেওয়া এবং মব সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে । এই ঘটনায় চান্দগাঁও থানার ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ধারী রায়হানুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা প্রধান অভিযুক্ত।

গত বুধবার (৯ জুলাই) চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে পুনরাবৃত্তি হবে না এমন মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ মো. আবদুল বাতেন জানান, তিনি চান্দগাঁওয়ের ওয়াহিদ ইলেকট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং ফটিকছড়ির গাউসুল আজম মাইজভান্ডারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ। তিনি সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে এই চক্র। গত ৩০ নভেম্বর বিষয়টি তিনি র‌্যাব-৭ অফিসে জানিয়েছিলেন, কিন্তু সহযোগিতা না পাওয়ায় সম্প্রতি আবারও চাঁদা দাবি করা হয়। টাকার দাবিতে না মেনে গেলে অধ্যক্ষকে মারধর করে গেটে তালা দিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় অভিযুক্তরা।

অধ্যক্ষ আরও জানান, তারা চাঁদা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে পোস্টার, ব্যানার ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। ৫ আগস্টের আগে একই চক্র আওয়ামী লীগ নেতা দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বাধা দিতেও চেষ্টা করেছিল। এখন ছাত্রদল নেতাদের ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে রাতে পুলিশ গেলে ছাত্রদল নেতাসহ দুষ্কৃতিকারীরা মব সৃষ্টি করে পুলিশকে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করে। পরে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম এসে তিনজনকে আটক করেন। তবে রাতেই আটককৃতদের সমর্থকরা থানার বাইরে এসে পুলিশকে চাপ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন।

চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘রাতভর উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠকের পর পুনরাবৃত্তি হবে না এমন মুচলেকা নিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘অধ্যক্ষের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করেছি। ওইদিন রাতেও পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, থানায় থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও বুধবার সকাল ও বিকেলে অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, একই চক্র তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে মারধর করেছে।

এই ঘটনায় সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।