20.9 C
Chittagong
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামআতঙ্কের জনপদ রাউজান: গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিশেষ সাক্ষাৎকার

“দল করেছি আদর্শ নিয়ে, আজও সেই জায়গা থেকে সরিনি”

আতঙ্কের জনপদ রাউজান: গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিশেষ সাক্ষাৎকার

সুসংবাদ ডেস্ক:

রাউজান—এক সময় শান্তির নাম ছিল এই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জনপদ। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও এই অঞ্চলের মানুষের মনের মাঝে এখনও আছে উন্নয়ন ও শান্তির আকাঙ্ক্ষা। দীর্ঘদিন পর ফিরে এসে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সুসংবাদ ডট নেটের সঙ্গে কথা বলেছেন এলাকার বর্তমান অবস্থা, দলীয় বিতর্ক ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার বিষয়ে।

প্রশ্ন: এতদিন পর রাউজানের রাজনীতিতে ফিরে এসে আপনার অনুভূতি কেমন?

গিয়াস কাদের: ফিরে আসা মানে নতুন করে দায়িত্ব নেওয়া। আমি নিজের মাটিতে ফিরে এসে খুশি, কারণ এখানকার মানুষ আজও আমার প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা রেখেছে। এই ভালোবাসা আমাকে আরও শক্তি দেয় দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করার।

প্রশ্ন: রাউজানে গত এক বছরে ১৫টি খুন হয়েছে। অনেকেই এলাকা এখন ‘আতঙ্কের জনপদ’ বলছেন। কী বলবেন?

গিয়াস কাদের: এটা খুবই দুঃখজনক সত্য, যে সহিংসতা বাড়ছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, সমস্যা চিহ্নিত করে সবাই মিলে কাজ করলে রাউজান আবার শান্তি ফিরে পাবে। প্রশাসন ও জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার।

প্রশ্ন: আপনার দলেরই এক সিনিয়র নেতা রাউজানে অশান্তির জন্য আপনাকে আকারে ইঙ্গিতে দায়ী করছেন। আপনার কী উত্তর?

গিয়াস কাদের: আমাদের দলের মধ্যে মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু আমি সবসময় দলের সম্মিলিত প্রয়াসে বিশ্বাসী। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অভিযোগের চেয়ে কাজ ও ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। আমি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর, কারো বিরক্তি বা ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দূর করার জন্য সদা প্রস্তুত।

প্রশ্ন: রাউজানে সহিংসতার খবর থাকলেও আপনি কীভাবে শান্তি ফিরিয়ে আনবেন?

গিয়াস কাদের: সহিংসতা মোকাবিলায় প্রথম শর্ত হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আমি সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই—জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং জনগণ। তরুণদের শক্তিকে ইতিবাচক কাজে লাগিয়ে, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে, নিরাপদ ও উন্নত রাউজান গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রশ্ন: বিএনপির কেন্দ্রীয় শোকজ ও দলীয় সংকট নিয়ে আপনার কী ভাবনা?

গিয়াস কাদের: রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকবে, এটা স্বাভাবিক। তবে দলকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমি দলের সিনিয়রদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—দেশ ও জনগণের সেবা।

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে ‘পরিবারতন্ত্র’ অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়ে আপনার কথা?

গিয়াস কাদের: রাজনীতি পারিবারিক হতে পারে, কিন্তু সেটা মানে অন্যদের সুযোগ নেই এমন নয়। আমি সবসময় নতুন ও যোগ্য নেতৃত্বকে সুযোগ দিয়েছি এবং দেবো। আমাদের দলকে তরুণ শক্তির নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন: রাউজানসহ দেশের যুবসমাজের জন্য আপনার বার্তা কী?

গিয়াস কাদের: আমাদের তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, সুস্থ বিনোদন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। আমি যুবসমাজকে আহ্বান জানাই—সঠিক পথে এগিয়ে চলুন, দেশের সেবা করুন।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে রাউজান ও বিএনপির জন্য আপনার লক্ষ্য কী?

গিয়াস কাদের: আমার লক্ষ্য রাউজানে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা। দলের পক্ষ থেকে আমরা কাজ করব জনগণের পাশে থেকে। আদর্শ ও নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলা আমার স্বপ্ন।”

প্রশ্ন: রাজনীতিতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

গিয়াস কাদের: রাজনীতি আমার জীবন। আমি এখানেই আছি, জনগণের পাশে থেকে কাজ করব। ক্ষমতা নয়, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন আমার উদ্দেশ্য। কঠোর পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে আমার লক্ষ্য অর্জন করব।”

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর কথায় স্পষ্ট—নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও তিনি আশা ও সমাধানের পথ দেখেন। রাজনৈতিক নেতার দায়িত্ববোধ ও জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা রাউজানের ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে।