30 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদউপজেলানথিতে মালিক, দখলে 'শক্তি': কর্ণফুলীতে অসহায় এক পরিবার

নথিতে মালিক, দখলে ‘শক্তি’: কর্ণফুলীতে অসহায় এক পরিবার

নামজারি-খাজনা সব বৈধ, তবু প্রভাবশালীদের দাপটে হাতছাড়া জমি; বৈঠক আর জিডিতেই বন্দি সমাধান

মনিরুল হক মনির, চট্টগ্রাম

কাগজে-কলমে জমির মালিকানা নিরঙ্কুশ। উপজেলা ভূমি অফিস সরেজমিন তদন্ত করে দিয়েছে নামজারি (মিউটেশন), নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে সরকারের অনলাইন খাজনাও। বিএস রেকর্ডেও নেই কোনো বিচ্যুতি। তবুও নিজের কেনা জমিতে পা রাখতে পারছে না একটি ভুক্তভোগী পরিবার। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ‘ভয়ে’ আর প্রশাসনের ‘ধীরগতিতে’ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে আছে একটি জমির মালিকানা। একাধিক বৈঠক, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও মেলেনি সমাধান। উল্টো জবরদখল আর হুমকির মুখে বিদেশের মাটিতেও আতঙ্কে দিন কাটছে মালিকপক্ষের।

নথিপত্র বনাম পেশিশক্তি: অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্ণফুলী উপজেলার সংশ্লিষ্ট মৌজায় জমিটি ভুক্তভোগী পরিবার তাদের মায়ের নামে ক্রয় করেন। বিক্রেতাদের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ওই জমির বিএস রেকর্ড ও নামজারি সব হালনাগাদ ছিল। নিয়ম মেনে বর্তমান মালিকের নামেও বিএস নামজারি সম্পন্ন হয়। ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিন তদন্ত করেই এই বৈধতা দিয়েছিলেন। মালিকানা নিশ্চিত করতে জমিতে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও শুরু হয় বিপত্তি। অভিযোগ উঠেছে, একদল স্থানীয় ব্যক্তি হঠাৎ করেই জমির মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে।

বৈঠকের আড়ালে কালক্ষেপণ: পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ভুক্তভোগীরা আইনি লড়াইয়ের আগে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পথ বেছে নিয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম থাকা অবস্থায়  অন্য সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম বকুল এই জায়গা দখল করেন। তিনি মারা যাওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে ছেলে সেকান্দর রানাও জায়গাটি দখলে রেখে জায়গায় না যেতে হুমকি দিয়ে দিচ্ছে। ভুক্তভোগী জয়নাব বেগম ও জোবেদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘ আমরা দুই বোনের বাড়ি করার জায়গা না থাকায় জায়গাটি কিনেছিলাম। কেনার পর থেকে ভূমি দস্যূদের কবলে পড়ে এখনও পর্যন্ত জায়গায় উঠতে পারছি না। আমরা সব দলিল দেখালাম, কিন্তু প্রতিপক্ষ একটি কাগজও দেখাতে পারেনি। উল্টো আমিন (জরিপকারী) দিয়ে জমি মাপার কথা বলে শেষ মুহূর্তে আমাদের জমিতে যেতে নিষেধ করে দেওয়া হয়।’

বিদেশে থাকার সুযোগে ‘মুখ দখল’: ভুক্তভোগী পরিবারটি পারিবারিক প্রয়োজনে কিছুদিনের জন্য প্রবাসে অবস্থান করলে সেই সুযোগটিই নেয় দখলদার চক্র। রাতারাতি জমির সামনের অংশ (মুখ) দখলে নিয়ে নেয় তারা। দেশে ফিরে নিজেদের অধিকার চাইতে গেলে জোটে রাজনৈতিক তকমাধারী মামুন নামক এক ব্যক্তির হুমকি। গত বছরের ৮ আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোকে সাইনবোর্ড খুলে ফেলার ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় জিডি করা হলেও রহস্যজনক কারণে ঝুলে আছে তদন্ত।

পুলিশের সামনেই চ্যালেঞ্জ!: ঘটনার এক পর্যায়ে কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমদাদের উপস্থিতিতেই অভিযুক্তরা মালিকপক্ষকে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সামনেই কাগজপত্র দেখতে চাওয়ার ধৃষ্টতা দেখায় দখলদাররা। যদিও ভুক্তভোগীরা জানান, সব নথি আগেই থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রতিপক্ষকে দলিল নিয়ে থানায় হাজির হতে বললেও তারা সময়ক্ষেপণের কৌশল অবলম্বন করে পার পেয়ে যাচ্ছে।