30 C
Chittagong
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদচট্টগ্রামগণমাধ্যমের স্বাধীনতায় জবাবদিহির সীমানা নির্ধারণে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে জোর; বিজ্ঞাপন বণ্টন ও অনুদানে নীতিমালার ইঙ্গিত

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় জবাবদিহির সীমানা নির্ধারণে আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জবাবদিহির সীমানা যৌথভাবে নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা জবাবদিহির কাঠামো নির্ধারণ করে সরকারকে অবহিত করলে সেই সীমার মধ্যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা—রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারি—যাতে গণমাধ্যমের কাজে বাধা দিতে না পারে, সে দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় পালন করতে প্রস্তুত।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব–এর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম ক্লাবের সুইমিংপুল সাইডে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

গণমাধ্যম মালিক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যম কোনো আনুষ্ঠানিক স্তম্ভ না হলেও বিচার, নির্বাহী ও আইন বিভাগের পাশাপাশি এটি কার্যত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। সরকার গণমাধ্যমে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেখতে চায় এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও তা উল্লেখ রয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ববোধের কাঠামোর মধ্যে স্বাধীনতাকে আবদ্ধ না করলে তার সুফল পাওয়া যায় না। আবার সরকার একতরফাভাবে জবাবদিহির সীমা নির্ধারণ করতে গেলে অতীতের সরকারের সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “আমাদের যৌথভাবে পথচলার পথনকশা তৈরি করতে হবে। সেই পথনকশা অনুযায়ী একটি সত্যিকারের স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারলে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।”

সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন ও বিভিন্ন অনুদান ব্যবস্থায় সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাব রয়েছে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুকূল্য বা তোষামোদই মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নতুন নতুন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। যারা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করেছে এবং যারা করেনি—এই দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রধান বক্তা প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, সংবাদমাধ্যম সমাজের দর্পণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি–এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ–এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, চট্টগ্রাম–১৫ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, সিএমইউজে সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, জ্যেষ্ঠ সদস্য মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মুস্তফা নঈম এবং সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান প্রমূখ।