৮৩ রানেই ৭ উইকেট—ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস তখন ধ্বংসস্তূপে। ১০০ পার করাই যেখানে কঠিন মনে হচ্ছিল, সেখান থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন দেখান জেসন হোল্ডার ও রোমারিও শেফার্ড। অষ্টম উইকেটে তাদের ৮৯ রানের রেকর্ড জুটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখে দেয়। এই জুটির কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াকু ১৭৬/৮ সংগ্রহ দাঁড় করায়, যা শুরুতে অসম্ভবই মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল—এটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মোটেও বড় লক্ষ্য নয়।
প্রোটিয়াদের ঝড়ো জবাব: আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম–এ রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
অধিনায়ক এইডেন মার্করাম খেলেন অপরাজিত ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন কুইন্টন ডি কক (৪৭) ও রায়ান রিকেলটন (৪৫*)।
ফলে মাত্র ১৬.১ ওভারে ৯ উইকেট ও ২৩ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় প্রোটিয়ারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া লক্ষ্য একসময় চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ঝড়ে তা হয়ে যায় একেবারেই মামুলি।
সেমিফাইনালে প্রায় নিশ্চিত: সুপার এইট পর্বে টানা দুই জয়ে শেষ চারের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরাম স্টেডিয়াম–এ চলমান ভারত–জিম্বাবুয়ে ম্যাচে ভারত জিতলেই প্রোটিয়াদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। এমনকি পরের ম্যাচে ছোট ব্যবধানে হারলেও বড় ক্ষতি নেই—নেট রান রেটে গ্রুপের অন্য দলগুলোর তুলনায় যোজন যোজন এগিয়ে আছে তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৭৬/৮
(শেফার্ড ৫২*, হোল্ডার ৪৯, কিং ২১; এনগিডি ৩/৩০, রাবাদা ২/২২, বশ ২/৩১)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬.১ ওভারে ১৭৭/১
(মার্করাম ৮২*, ডি কক ৪৭, রিকেলটন ৪৫*; চেজ ১/৪৬)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: এইডেন মার্করাম
দক্ষিণ আফ্রিকার এই দাপুটে জয় তাদের শিরোপা দৌড়ে যে বড় বার্তা দিল—তা বলাই বাহুল্য।

