18.6 C
Chittagong
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
spot_img

― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদটপ নিউজনাসার মহাকাশ মিশন প্রথমবারের মতো নভোচারীর অসুস্থতায় শেষ

স্বাস্থ্যগত কারণে মিশন বন্ধের ঘটনা ইতিহাসে প্রথম

নাসার মহাকাশ মিশন প্রথমবারের মতো নভোচারীর অসুস্থতায় শেষ

সুসংবাদ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থানরত চারজন নভোচারী বুধবার দিবাগত মধ্যরাতের পর নিরাপদে পৃথিবীতে ফেরেন, তাদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় নির্ধারিত সময়ের কয়েক সপ্তাহ আগেই মিশন শেষ করতে হয়। নাসার ইতিহাসে এটি প্রথমবার, যখন কোনো নভোচারীর স্বাস্থ্যগত কারণে মিশন সময়ের আগে বন্ধ হয়েছে।

নভোচারীদের বহনকারী স্পেসএক্সের ‘ক্রু ড্রাগন’ ক্যাপসুল ইন্ডেভার বুধবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করে। মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীর দিকে যাত্রা প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চলেছে।

এই মিশনের নাম ছিল নাসার ক্রু-১১। নভোচারীরা আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আইএসএসে পৌঁছান এবং সেখানে মোট ১৬৭ দিন অবস্থান করেন। সাধারণত নাসা-স্পেসএক্সের মিশনগুলো ছয় মাসের জন্য স্থায়ী হয়; সেই হিসেবে এই মিশন প্রায় এক মাস আগেই শেষ হলো।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, অসুস্থ নভোচারীর চিকিৎসার প্রয়োজনেই পুরো দলকে আগেভাগে ফেরানো হয়েছে। নাসার প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা জেমস পলক বলেন, অসুস্থতা কোনো কাজ-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার কারণে হয়নি। তবে গোপনীয়তার কারণে নভোচারীর পরিচয় বা অসুস্থতার ধরন প্রকাশ করা হয়নি।

পৃথিবীতে ফেরার পথে চারজন নভোচারীর মধ্যে ছিলেন: যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার জিনা কার্ডম্যান (৩৮) ও মাইক ফিঙ্কে (৫৮), জাপানের কিমিয়া ইউই (৫৫) ও রাশিয়ার ওলেগ প্লাটোনভ (৩৯)। অবতরণের সময় ক্যাপসুলটির আশপাশে সাঁতার কাটতে দেখা যায় কয়েকটি ডলফিন। রেডিও যোগাযোগে কার্ডম্যান জানান, “বাড়ি ফিরে খুব ভালো লাগছে।”

এএফপি জানায়, ২০০০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ ও জাপান যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গবেষণা চালিয়ে আসছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থিত এই স্টেশন ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ২০৩০ সালের পর বন্ধ করা হবে এবং ধীরে ধীরে কক্ষপথ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘পয়েন্ট নেমো’ এলাকায় মহাকাশযানের কবরস্থানে নামানো হবে।