কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সদ্য বিএনপি থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রাপ্ত কামরুল হুদাকে ঘিরে দলের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান, নেতৃত্বে অনুপ্রবেশ এবং ব্যবসায়িক অনিয়ম–সংক্রান্ত নানা অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও দলীয় নেতাদের একাংশের অভিযোগ, ২০০৬ সাল থেকে কামরুল হুদা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রহমত উল্লাহ বাবুল এবং সহসভাপতি মো. আলী আসওয়াবের সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে রয়েছেন। এই সম্পর্কের কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকে তাঁকে “আওয়ামী লীগের বি–টিম” বলে উল্লেখ করছেন।
বিতর্কিত নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
নবগঠিত উপজেলা বিএনপি কমিটিতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বিপুল টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলনে সক্রিয় থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী ও অর্থশালী ব্যক্তিরা নেতৃত্বে জায়গা পাচ্ছেন।
উদাহরণ হিসেবে তাঁরা উল্লেখ করেন, ছাত্রদলের নবনিযুক্ত সেক্রেটারি আবিরকে, যিনি আওয়ামী লীগ–মনোনীত সাবেক চেয়ারম্যান পাশার ছেলে এবং একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একইভাবে যুগ্ম আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন লালটু ও রিয়াজ উদ্দিনকেও আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাইরাল ছবি নিয়ে বিতর্ক
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় কামরুল হুদা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি ওলামা লীগ নেতা হাবিবুর রহমান কাচপুরীর সঙ্গে একই গাড়িতে ভ্রমণ করছেন। এই ঘটনার পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের সঙ্গে বৈঠকের একটি ছবিও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ব্যবসায়িক অনিয়মের অভিযোগ
কামরুল হুদার অংশীদারিত্ব থাকা মিয়া বাজার সিএনজি ফিলিং স্টেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস মিটার টেম্পারিংসহ চারটি ঘটনায় প্রায় ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার আর্থিক দায় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সংযোগ বর্তমানে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে হাইকোর্ট ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) একাধিক মামলা চলছে।
কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জানানোর ইঙ্গিত
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উপজেলা কমিটি ও মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করবে বলে বিশ্বাস করি।
তৃণমূলে প্রতিক্রিয়া
একজন স্থানীয় সিনিয়র বিএনপি নেতা বলেন, “যারা আন্দোলনে ছিল, তারা বাদ পড়ছে; অথচ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠরা নেতৃত্বে আসছেন। এটা আমাদের জন্য হতাশার।”
আরেক তরুণ নেতা বলেন, “দলীয় নেতৃত্বে টাকার প্রভাব বাড়ছে, ফলে মাঠের কর্মীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।”
দলের অভ্যন্তরে এমন অসন্তোষ চলতে থাকলে তৃণমূল সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি।

