নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আলোচিত রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনউদ্দিন কাদির শুনানি শেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা তুহিন হত্যা মামলায় সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ফতুল্লা থানায় দায়ের হওয়া চাঁদ মিয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন আবেদন করেন আইভীর আইনজীবীরা। তবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ জামিন নামঞ্জুর করেন।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তুহিন হত্যা মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছরের ২০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রিকশাচালক মো. তুহিন। প্রায় দুই মাস পর নিহতের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিম মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সাবেক মেয়র আইভীসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৯৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। আইভী এ মামলার ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
আইভীর পক্ষে আদালতে শুনানিকালে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, ‘মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তা উপস্থাপন করা হলেও আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এটি আমার আইনজীবী জীবনে নজিরবিহীন ঘটনা।’
সরকারি কৌঁসুলি (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, ‘একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আইভী এজাহারনামীয় হুকুমের আসামি। আদালত যথাযথ শুনানি শেষে রিমান্ড দিয়েছেন।’
গত ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা ‘চুনকা কুটির’ থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। মিনারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে সেখান থেকেই শুরু হয় তার কারাবন্দি জীবন।
এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। প্রতিটি মামলাতেই একে একে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

